প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

Win Cancer Bangladesh কার্যক্রম প্রসঙ্গে

পূর্বকথাঃ
২০২২ সালে আমার মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পরে। দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। কোথায় কি করতে হয়, কিভাবে করতে হয় – সঠিক গাইডলাইন পাচ্ছিলাম না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে সুস্থ থাকাও অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আমি যে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে যেন আমি অন্য রোগীদের পাশে থাকতে পারি, এই উদ্দেশ্যেই প্লাটফর্মের উদ্যোগ।  এই প্লাটফর্ম তৈরিতে অনেকেই সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।

ক্যান্সার সচেতনতা নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন একটা কাজ এবং অনেক বিস্তৃত।  সবার সহযোগিতা পেলেই এটা আমরা সফল করতে পারবো। – সুব্রত দেব।

আমাদের এই প্লাটফর্মের মূল কাজ

আমাদের এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে আমরা যদি কিছু রোগীকেও তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে পারি, তাহলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবো। যেহেতু ক্যান্সারের চিকিৎসা রোগীর শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বিভিন্ন টেস্টের রিপোর্ট, ক্লিনিক্যাল অবজার্ভেশন সহ আরও অনেক কিছুর উপর নির্ভরশীল, সেহেতু অনলাইনে দূরে বসে যাচাই করা ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি বলা সম্ভব নয়, উচিতও নয়।তাই আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি, হার মেনে না নেয়ার প্রতিজ্ঞা গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।

আমাদের এই প্লাটফর্মের মূল কাজ হলঃ

  • আমাদের প্রধান কাজ হল ক্যান্সারের বিষয়গুলো মানুষকে জানানো এবং সচেতন করা।
  • অডিও বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগী এবং আত্মীয়দের মানসিক সাপোর্ট দেয়া। সাইকোলজিস্টের মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা প্রদানের চেষ্টা করা।
  • ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক গাইডলাইন প্রদান করা। ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতি, বিভিন্ন রকম সাবধানতা জানিয়ে দেয়া। বুঝে শুনে যাচাই করে চিকিৎসা করার উপায় বলে দেয়া।
  • কেমোথেরাপি/রেডিওথেরাপি অর্থাৎ চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করা।
  • একটা প্লাটফর্মে ক্যান্সার বিষয়ক সকল তথ্য প্রদান করা।
  • ক্যান্সার রোগীদের সফলতার গল্প সবার কাছে তুলে ধরা যেন রোগীরা আবার আশাবাদী হয়ে উঠে।
  • ক্যান্সার রোগীদের অনলাইন কমিউনিটি বানানো যেন একে অপরকে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু
চিকিৎসা বিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত আমরা কখনোই দিতে পারবো না। রোগী যে চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তিনিই সকল সিদ্ধান্ত দিবেন। কারণ, রোগীর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে রোগীর শারীরিক অবস্থা নির্ধারন করতে পারবেন কেবলমাত্র সেই চিকিৎসক।

আমরা দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান ও চক্ষুদান নিয়ে কাজ করছি। মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করা এবং চক্ষুদানের ভুল ভেঙ্গে এগিয়ে আসার জন্য আমাদের পুরো টিম কাজ করে আসছি। কোনো প্রতিদানের আশা না করে নিঃস্বার্থভাবে কাজে করে যাচ্ছে এই ভলান্টিয়াররা।

আমাদের রক্তদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে

রক্তদানের কার্যক্রমঃ
১) রক্তদান করতে চাইলে, আমাদের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করুন। পাশাপাশি, রক্তের প্রয়োজনে ওয়েবসাইট থেকে জেলাভিত্তিক রক্তদাতা খুঁজে নিনঃ www.DonateBloodBD.com

২) আপনি রক্তদানে ইচ্ছুক হলে আমাদের, গ্রুপ “রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ” পোস্ট করুন। ভলান্টিয়াররা আপনাকে রোগী খুঁজে দিবে। এতে একজন রোগীর উপকার হবে এবং আপনার রক্তদানের ইচ্ছাপূরণ হবে।

৩) রক্তের প্রয়োজনে “রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ” গ্রুপের রক্তদাতাদের এক্সেল ডাটাবেজ থেকেও রক্তদান খুঁজে নিতে পারবেনঃ www.DonateBloodBD.com/donor-list-rdob

৪) তাছাড়া , আমাদের রয়েছে রক্তদানের কল সেন্টার। রক্তের প্রয়োজনে রোগীর পাশে যে আত্মীয় আছেন, উনাকে বলুন আমাদের কল করে রোগীর বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দিতে। আমাদের টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সাহায্য করার জন্য। কল সেন্টারের নাম্বারঃ 01756963308 অথবা 01748306027

আমাদের চক্ষুদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে

চক্ষুদানের কার্যক্রমঃ

চক্ষুদানে মানুষকে সচেতন করতে আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ “অন্যের চোখে বাঁচি (মরণোত্তর চক্ষুদান)” এবং ওয়েবসাইট www.EyeDonationBD.com এর মাধ্যমে আমরা মানুষকে চক্ষুদানে সচেতন করছি।

মৃত্যুর পর আমাদের চোখ দুটো নষ্ট না করে দুইজন অন্ধ মানুষকে দিয়ে যাই আসুন ???? অন্ধ মানুষটি তাঁর প্রিয় মানুষদের দেখুক আমাদের চোখে ????
মৃত্যুর পরেও মানুষের উপকার করার সবচেয়ে সহজতম উপায় হল মরণোত্তর চক্ষুদান… আপনার মা-বাবা-ভাই-বোন-স্বামী-স্ত্রী-সন্তান (১৮ বছরের উপর) যেকোনো একজন অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে ঘরে বসে মরণোত্তর চক্ষুদানের রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুনঃ
www.EyeDonationBD.com