প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

বয়স

সাধারণত বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে

খাবার এবং জীবনযাপনের ধারা

খাবার, অভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধারার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে গবেষকরা।

পারিবারিক ইতিহাস

পরিবারের কারো যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকে তাহলে অন্যদেরও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়।

পরিবেশ এবং পেশাগত কারণ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রাসায়নিক কারখানায় কাজ, অতিরিক্ত রোদে থাকা – ইত্যাদি কারণেও ক্যান্সার হতে পারে।

ক্যান্সার হবার সাধারণ কারণসমুহ

ক্যান্সার কেন হয়, এর সঠিক কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ণয় সম্ভব হয়নি। তবে কিছু কিছু ক্যান্সারের বেলায় নির্দিষ্ট কিছু কারণকেই দায়ী করা যায়। ক্যান্সার সৃষ্টিতে এগুলোর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ প্রভাব আছে।

  • ফুসফুসের ক্যান্সারের বেলায় ধূমপানকে বেশী দায়ী করা হয়। মুখ ও গলার ভেতর ক্যান্সার সৃষ্টিতেও ধূমপানের দখল আছে।
  • চুন, সুপারি জর্দাসহ সেবন, মদ্যপান, দুক্তা, খৈনি ইত্যাদি তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারও মুখের ক্যান্সার সৃষ্টিতে দায়ী।
  • খাদ্যদ্রব্যে ছত্রাক থাকা এবং হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস-এর আক্রমণ লিভারের ক্যান্সার সৃষ্টিতে দায়ী বলে মনে করা হয়।
  • মহিলাদের স্তন ক্যান্সার সাধারণত মোটা স্থূল মহিলাদের মধ্যে বেশী দেখা যায়।
  • সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি এক্স-রে গামা-রে (যা তেজস্ক্রীয় পদার্থ থেকে নির্গত হয়), আলকাতরা এবং পিচ নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।
  • এ্যাসবেলসটস, আরসেনিক, নিকেল ও আয়রন শ্রমিকদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার বেশী দেখা যায়।
  • যেসব এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি, সেখানে সেই ধরনের ফুসফুস ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যাও বেশি।
  • ক্রনিক ইনফেকশন, পিত্তথলির পাথর, বিভিন্ন রেডিয়েশন ইত্যাদি কারণে ক্যান্সার হতে পারে।

ধারণা করা হয়ে থাকে, ওপরের কারণগুলো প্রতিহত করতে পারলে তিন ভাগের একভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

u

ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যাপারে রোগী এবং রোগীর আত্মীয় পরিস্কার ধারণা রাখুন।

ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়দের বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হয়। কোনো বিষয় না বুঝলে চিকিৎসককে জিজ্ঞাস করুন। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সে ব্যাপারে পরিস্কার ধারণা নিয়ে তারপর সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজনে ইন্টারনেটে বিশ্বাসযোগ্য সোর্স থেকে রিসার্চ করে জেনে নিন। ক্যান্সার চিকিৎসায় বিভিন্ন টিমের সাথে কাজ করতে হয়, যেমনঃ হাসপাতালের সার্জারি টিম, কেমোথেরাপি টিম, রেডিওথেরাপি টিম ইত্যাদি। সবাই সবার কাজ সঠিকভাবে পালন করচছে কিনা সে ব্যাপারে যথাসম্ভব খেয়াল রাখুন।

ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে হবে। যখন একজন রোগীর ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন রোগী এবং রোগীর আত্মীয়রা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। জীবনের এই কঠিন মুহুর্ত যেন পরিবারটিকে এলোমেলো করে দেয়। তাই ক্যান্সার রোগী এবং ক্যান্সার রোগীর পরিবারকে মানসিকভাবে সাহস দিন, আস্থা দিন, ভরসা দিন। ইতিবাচক কথা বলে তাঁদের আশাবাদী করে তুলুন। 

ক্যান্সার রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের দেশের প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীর মানসিক থেরাপিও প্রয়োজন রয়েছে। যেমনঃ মানসিক পরামর্শ, স্ট্রেস থেরাপি, স্লিপ থেরাপি, ছোটখাট শারীরিক ব্যায়াম - ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।