প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

ক্যান্সার রোগী ও তাঁর পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য

প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব কিছু স্বপ্ন, পরিকল্পনা, কিছু করার ইচ্ছা, কিছু অর্জন করার ইচ্ছা থাকে। মানুষের লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে,লক্ষ্যের পাশাপাশি তার পরিবার ও ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা থাকে। যখন কোনো ব্যক্তি হঠাৎ জানতে পারে যে তার ক্যান্সার হয়েছে, তখন সে ব্যাক্তি এবং তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। জীবনের হিসাব-বিকাশ সবকিছু বদলে যায়। এই পরিস্থিতিতে হতাশা, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা গ্রাস করে। শুধু ক্যান্সার রোগীই নয়, ক্যান্সার রোগীর পুরো পরিবার এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায়।

মনের শক্তি এবং বাঁচার তীব্র আশা ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার জন্য অতীব প্রয়োজন।

১) ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয় – এটা মনে গেঁথে রাখতে হবে। আমাদের চারপাশেই প্রচুর ক্যান্সার রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবন-যাপন করছে। মনে শক্তি সঞ্চয় করে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিতে হবে।

২) চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে, আপনার জন্য উপযুক্ত শারীরিক ব্যায়ামগুলো জেনে নিয়ে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে।

৩) প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করার শখ থাকে বা অন্তত কিছু থাকে যা সে করতে ভালোবাসে এবং উপভোগ করে ধরুন, আপনি যদি বই পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে বই পড়ুন, লিখালেখি বা আকাআকি করতে পারেন অর্থাৎ আপনার যা ভালো লাগে সেটাই করতে পারেন (এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবেন)। আপনি চাইলে নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করতে পারেন।
আপনার সমস্ত অনুভূতি বা উদ্বেগগুলি ডায়েরিতে লিখতে পারেন বিশেষ করে যে অনুভূতিগুলি আপনি কারো সাথে ভাগ করে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
এছাড়াও আরোও অনেক আকর্ষণীয় কাজ রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ, বাগান করা, ধাঁধা সমাধান করা, বোর্ড গেম খেলা, ম্যাগাজিন পড়া ইত্যাদি।

৪) রোগী এবং রোগীর পরিবারের প্যানিক এটাক হবারও সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। আমাদের প্লাটফর্মের মাধ্যমে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়ের জন্য বিনামূল্যে মানসিক পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই। আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ/পেইজে জানিয়ে দেয়া হবে। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে সাইকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ নিতে পারবেন। সার্বিক সহযোগিতায় টিম প্রিয় ক্যামেলিয়া

ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে হবে। যখন একজন রোগীর ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন রোগী এবং রোগীর আত্মীয়রা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। জীবনের এই কঠিন মুহুর্ত যেন পরিবারটিকে এলোমেলো করে দেয়। তাই ক্যান্সার রোগী এবং ক্যান্সার রোগীর পরিবারকে মানসিকভাবে সাহস দিন, আস্থা দিন, ভরসা দিন। ইতিবাচক কথা বলে তাঁদের আশাবাদী করে তুলুন।