প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

ব্লাড ক্যান্সারের প্রকারভেদ

রক্তের যে কোন কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকেই রক্তের ক্যান্সার জন্ম নেয়। একটি অস্বাভাবিক কোষ থেকে দশটি, সেই দশটির প্রতিটি থেকে আরও দশটি করে পরবর্তীতে আরও শত-সহস্র-লক্ষ, এভাবেই এরা বাড়তে থাকে। অস্বাভাবিক কোষগুলো নিজের কাজ ঠিক মত করে না, অন্য স্বাভাবিক কোষকে জন্ম নিয়ে ঠিক মত বাড়তে দেয়না, বিভিন্ন অঙ্গে জমে গিয়ে সেইসব অঙ্গের কাজে নানা বাঁধা দেয়।

বিশ্বব্যাপী ২৮ মে আন্তর্জাতিক ব্লাড ক্যান্সার দিবস পালিত হয়।

ব্লাড ক্যান্সারের প্রকারভেদঃ

১।  শ্বেতকণিকা থেকে বা হোয়াইট ব্লাড সেল থেকে সৃষ্ট ব্লাড ক্যান্সারকে লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার বলে। এই ধরণের ব্লাড ক্যান্সার তিন ধরণের হয়ে থাকে।

  • একিউট মাইলোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া
  • একিউট লিমফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া
  • ক্রনিক লিমফোসাইটিক লিউকেমিয়া

২।  লসিকা গ্রন্থি থেকে সৃষ্ট এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সারকে লিমফোমা বলে। এই ধরণের ব্লাড ক্যান্সার ২ ধরণের হয়ে থাকে।

  • হজকিন ও নন হজকিন লিমফোমা
  • লিমফোব্লাস্টিক লিমফোমা।

৩।  মাইলোমা ও প্লাজমা সেল লিউকেমিয়া: প্লাজমা সেল থেকে সৃষ্ট ব্লাড ক্যান্সার।

ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণঃ
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নিন।

  • রক্তস্বল্পতার জন্য দুর্বলতা, খাবারের অরুচি, বুক ধড়ফড়, পায়ে পানি জমে যাওয়া, ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
  • দীর্ঘদিনের জ্বর বা ঘনঘন জ্বর
  • অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ
  • গ্লান্ড ফুলে যাওয়া, লিভার-প্লীহা বড় হওয়া
  • কারো কারো ওজন কমতে পারে
  • হাড়ে ব্যথাও হতে পারে।

এছাড়া স্কিন লিভার বড় হয়ে যেতে পারে। ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, কাজের মধ্যে অনীহা এবং ওজন কমতে পারে।

সাধারণত যেসকল কারণে ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে

ব্লাড ক্যানসার কেন হয় তার সঠিক কারণটি এখনো অস্পষ্ট। নানা ধরনের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব, রাসায়নিক বর্জ্য, ধূমপান, কৃত্রিম রং, কীটনাশক, ভাইরাস ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। এগুলোর প্রভাবে জিনে মিউটেশন ঘটে যায় ও কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিক উল্টাপাল্টা সংকেত প্রবাহিত হয়। তখন কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, অপরিণত অস্বাভাবিক কোষ রক্তপ্রবাহে চলে আসে।  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতা, যেকোন ধরনের ইনফেকশন থাকা, বংশগত কারণ,ধুমপান – ইত্যাদি কারণেও ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে।

ব্লাড ক্যানসার ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়। ব্লাড ক্যানসার ছোট–বড় যে কারও হতে পারে।

ডায়াগনোসিস

রোগ নির্ণয় এর জন্য রক্তের CBC with peripheral blood film/PBF সহ বেশ কিছু পরীক্ষা, বোন ম্যারো পরীক্ষা( Bone marrow study) , ট্রিফাইন বায়োপ্সি, লিম্ফনোড বায়োপ্সি, কিছু সূক্ষ পরীক্ষা যেমন ফ্লো সাইটোমেট্রি, ইমিউন হিস্টোকেমিস্ট্রি, ডিএনএ এনালাইসিস বা সাইটোজেনেটিক্স এসব পরীক্ষা করতে হয়। বিশেষ ধরণের রক্ত ক্যান্সারে শরীরের বিভিন্ন প্রোটিনের পরীক্ষাও বিশেষ পদ্ধতিতে করতে হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর উপসর্গের ওপর।  চিকিৎসকরা চিকিৎসা শুরু করার আগে রোগীর বয়স, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং ব্লাড ক্যান্সারের ধরণ সম্পর্কে একটি নোট নেন।

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেঃ

রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ক্যান্সারের ধরণ অনুযায়ী চিকিৎসক সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারন করবেন।

অন্যান্য

আমাদের কাছে অনেক রোগী অনেক দেরিতে আসেন, যখন চিকিৎসা করে ভালো ফল পাওয়া যায় না। কোন কোন ব্লাড ক্যানসারতো ৯০ ভাগ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া বাচ্চাদের যে চিকিৎসাটা আছে এটা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অতএব আমরা যেটা মনে করতাম, ব্লাড ক্যানসার মানে মৃত্যু, সেটা নয়। ‘ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া’ এই ক্যানসারের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা আমাদের দেশে রয়েছে। শুধু লম্বা সময় ধরে ওষুধ খেতে হয়, এবং এটাও ভালো হওয়া সম্ভব। এছাড়াও ‘ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া’- এটাতে প্রাথমিক পর্যয়ে কোনো চিকিৎসা লাগে না। লম্বা সময় ধরে আমরা শুধু পর্যবেক্ষণ করি এবং স্টেজ থ্রিতে গিয়ে আমরা চিকিৎসা দিয়ে থাকি। বাংলাদেশে এখন ক্যানসারের অনেক ভালো মানের চিকিৎসা আছে। ক্যামোথেরাপি ছাড়াও আজকাল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। এই ধরনের ওষুধও বাংলাদেশে রয়েছে। (সূত্র: ডক্টর টিভি)

রোগীদের কেমোথেরাপির সময় রক্তের প্লাটিলেট, হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। হিমোগ্লোবিন বাড়াতে আনার, বিটরুটের জুস খেতে হবে। বিভিন্ন শাক এবং আমিষের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে, কারণ ভিটামিন সি সাধারণত আয়রন পরিশোষণে সহায়তা করে। আরো বিস্তারিত পড়ুনঃ Patient’s Diet

সতর্কতার সঙ্গে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো যায়।