প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

ইমিউনোথেরাপি

ইমিউনোথেরাপি কি?

ইমিউনোথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসা করার একটি পদ্ধতি সেখানে চিকিৎসা পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো শরীরের সাধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যবস্থাটিকে বর্ধিত করা এবং উন্নতি সাধন করর মাধ্যমে ক্যান্সার ধ্বংস করা। ইমিউন সিস্টেমকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে মূলত ইউমোথেরাপি দেওয়া হয়।

ইমিউনোথেরাপির উপকারিতা

  • ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ পদ্ধতিকে প্রশিক্ষিত করে তোলে যার মাধ্যমে এটি চিহ্নিত অথবা পরীক্ষা করতে পারে নির্দিষ্ট কোষগুলিকে যেগুলি ক্যান্সার যুক্ত অথবা স্বভাবে অস্বাভাবিক প্রকৃতির।
  • শরীরকে অতিরিক্ত উপাদান গুলির সাথে আরো ভালোভাবে লড়াইয়ে সক্ষম করে তুলতে সহায়তা করে।

ইমিউনোথেরাপির প্রকারভেদ
প্রাথমিকরূপে ইমিউনোথেরাপির চারটি স্বতন্ত্র প্রকারভেদ রয়েছে যা চিকিৎসকেরা আপনার স্বাস্থ্য বিবেচনা করে প্রদান করেন। আপনার শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর ভিত্তি করে আপনার পেশাদার স্বাস্থ্য সেবা দলটি সিদ্ধান্ত নিবেন কোন ধরনের থেরাপি আপনার জন্য উপযুক্ত। এগুলি নিম্নরূপ :

১. মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি

  • মস্তিষ্ক অথবা ফুসফুসের ক্যান্সার
  • স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার
  • পেট/পাকস্থলী অথবা প্রোস্টেট ক্যান্সার
  • লিম্ফোমা

২. অনকোলিটিক ভাইরাস থেরাপি

৩. টি – সেল (কোষ) থেরাপি

  • বি – সেল লিম্ফোমাস
  • বিষম লিউকেমিয়া

৪. ক্যান্সার ভ্যাকসিন বা টিকাগুলি

  • এইচপিভি / HPV
  • ভিন্ন ভিন্ন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে
  • হেপাটাইটিস বি

৫. ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটরস

ইমিউনোথেরাপির সুবিধাগুলি
১. যেহেতু এই থেরাপির লক্ষ্য হলো আপনার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা তাই, ক্যান্সার থেকে আসা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলি অথবা ক্যান্সারের বিকল্প থেরাপিগুলি থেকে কম তীব্রতর হবে।

২.একবার আপনার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই থেরাপি থেকে স্থায়ীভাবে উন্নতি লাভ করলে ক্যান্সারজনিত পরিস্থিতি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। প্রকৃতপক্ষে, ইমিউনোথেরাপি কার্যকর রূপে দেহে ক্যান্সার বৃদ্ধি দ্রুত হ্রাস করতে পারে যখন ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যান্য পদ্ধতিগুলি বিদ্যমান ক্যান্সার কোষ গুলিকে অপসারণ এর উপর জোর দেয়।

৩.অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যর্থ হলেও ইমিউনোথেরাপি কার্যকর হতে পারে।

৪. যেহেতু ক্যান্সারের চিকিৎসা গুলিতে প্রায়শই অনেকগুলি চিকিৎসার মিশ্রণ থাকে,তাই ইমিউনোথেরাপি অন্যান্য চিকিৎসা সঙ্গে দারুণভাবে সমর্থন চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে এবং তাদের আরো ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করতে পারে।

ইমিউনোথেরাপির অসুবিধাগুলি
১.আমাদের প্রথম যে বিষয়টি মনে রাখা উচিত তা হল ইমিউনোথেরাপি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। এটি আপনার শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে বা নাও পারে।

২. অন্য যেকোনো ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতির মতো, ইমিউনোথেরাপিও এর নিজস্ব পার্শপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আসে যা জ্বর, সর্দি, অতিশয় ক্লান্তি, ব্যাখ্যাহীন ওজন বৃদ্ধির আকারে হতে পারে।

৩. ইমিউনোথেরাপি আপনার ত্বকে খারাপ প্রতিক্রিয়া ফেলে দিতে পারে। এটি লক্ষ্য করা গেছে যে ইমিউনোথেরাপি করা অঞ্চলটিতে প্রায়শই লালভাব, চুলকানি এবং অন্যান্য এলার্জির মত লক্ষণগুলি্ দেখতে পাওয়া যায়।

৪. ক্যান্সার যুক্ত টিউমার বা কোষগুলির পাশাপাশি, এই থেরাপি আপনার দেহের স্বাস্থ্যকর অঙ্গগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

কেমো এবং রেডিয়েশন থেরাপি (রশ্মি বিকিরণ পদ্ধতি) তুলনামূলক ভাবে দ্রুত সম্পন্ন হলেও ইমিউনোথেরাপি হয় না। এই থেরাপি ধীরে ধীরে আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে সময় নেয়,যার অর্থ আপনি যদি দ্রুত সমাধানের সন্ধান করেন তবে এই থেরাপিটি আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।

থেরাপির পূর্বে চিকিৎসক থেকে কি কি বিষয় জেনে নেয়া প্রয়োজন?

  • এই চিকিৎসার সুবিধাগুলো কি কি?
  • চিকিৎসার ঝুঁকিগুলো কি কি? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?
  • থেরাপির আগে কি কি পরীক্ষা বা স্ক্যান করতে হবে?
  • এই থেরাপিতে কতদিন চিকিৎসা চলবে?
  • খরচ কেমন হতে পারে?
  • চিকিৎসা চলাকালীন কতদিন পর পর ফলো-আপের জন্য আসতে হবে?
  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে কি করা উচিত?

তথ্যসুত্র ১তথ্যসূত্র ২