প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

লিভার ক্যান্সার কি?

লিভারের শরীরে বিভিন্ন কাজ রয়েছে যেমন শরীরে রক্ত ​​সঞ্চালন ফিল্টার করা, হজম হওয়া খাদ্য থেকে রক্তে পুষ্টি যোগ করা, ওষুধ শোষণ করা এবং রক্তে গ্রহণের জন্য রাসায়নিক পদার্থে রূপান্তর করা, রক্ত ​​থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন এবং ফ্রি রাডিক্যাল অপসারণ ইত্যাদি।

যখন লিভারের কোষগুলি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং স্বাভাবিক কোষগুলিকে ধ্বংস বা ক্ষতি করে, তখন লিভার ক্যান্সার হয়। এই কারণে, লিভার তার স্বাভাবিক কাজ সম্পাদন বন্ধ করে দেয়।

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণঃ

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নিন।

  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • পেটের ওপরের দিকে ব্যথা
  • বমি হওযা বা বমি বমি ভাব
  • দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • পেট ফুলে যাওয়া
  • চোখ ও ত্বক হলুদভাব দেখানো এবং জন্ডিস
  • চকের মতো সাদা পায়খানা ও কালচে প্রস্রাব হওয়া
  • চামড়ায় ও চোখের সাদা অংশ হলুদ রঙ ধারণ করা
  • পেটের উপরের দিকে ডান পাশে ব্যথা অথবা ডান কাঁধের কাছাকাছি ব্যথা
  • ডান পাঁজর ফুলে যাওয়া

লিভারে ক্যান্সার হলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই এগুলোর কোনোটা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    সাধারণত যেসকল কারণে লিভার ক্যান্সার হতে পারে

    লিভার ক্যান্সারের কিছু কারণ আছে। আসুন জেনে নিই সেই সম্পর্কেঃ

    • হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস (এইচবিভি) বা হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের (এইচসিভি) দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
    • সিরোসিসের কারণে লিভারে দাগের টিস্যু তৈরি হয় এবং সেটি লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
    • বংশে কারো এটির ইতিহাস থাকলেও লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
    • চর্বি জমে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
    • বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করলে লিভারের অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হতে পারে এবং আপনার লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
    • দীর্ঘসময় ধরে ছত্রাক যুক্ত বা পচা-বাসি খাবার খেলে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
    • ডায়াবেটিসের কারণেও অনেক সময় লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

    ডায়াগনোসিস

    লিভার ক্যান্সার নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে নিচের টেস্টগুলো করতে হয় সাধারণতঃ

    • রক্ত পরীক্ষা (Blood tests)
    • সিটি স্ক্যান (CT Scan)
    • এমআরআই (MRI)
    • লিভার বায়োপসি (Liver Biopsy): পরীক্ষার জন্য টিস্যু পেতে ত্বকের মাধ্যমে লিভারে একটি পাতলা সুই লিভারে প্রবেশ করানো হয়।

      চিকিৎসা পদ্ধতি

      •  টিউমার বের করার জন্য সার্জারি
      • লিভার প্রতিস্থাপন: একজন দাতার কাছ থেকে লিভার সংগ্রহ করে তা স্থাপন যদিও এটি সহজ নয়।
      • অ্যাবলেশান থেরাপিতে অ্যালকোহল, ঠাণ্ডা, গরম অথবা বৈদ্যুতিক পালসের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা।ত
      • এমবোলাইজেশন থেরাপি: এমবোলাইজেশন থেরাপিতে ঊরু ও হেপাটিক ধমনী দিয়ে একটি চিকন নল প্রবেশ করানো হয়। চিকিৎসক নলের মধ্যে একটি উপকরণ প্রবেশ করান, যা রক্তের প্রবাহ থামিয়ে দেয় এবং টিউমারকে পুষ্টিকর উপাদান থেকে বঞ্চিত করে। কেমোথেরাপির ওষুধ অথবা রেডিয়েশন বিডকেও এভাবে নলের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হতে পারের
      • টার্গেটেড থেরাপি: টার্গেটেড থেরাপিতে এমন কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয় যেগুলো সরাসরি ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে আক্রমণ করে। এর ফলে টিউমারগুলো রক্তনালী তৈরি করতে পারে না, যা তাদের টিকে থাকার জন্য আবশ্যক। কখনো কখনো টিউমার আক্রান্ত কোষগুলো এসব ওষুধের কারণে বিভাজিত হতে পারে না এবং বড়ও হতে পারে না।

      অন্যান্য

      লিভার ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা না গেলেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে আপনার এ ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।  সেগুলো হলোঃ

      • হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন গ্রহণ
      • পরিমিত খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা
      • মদ্যপান যথাসম্ভব পরিহার করা

      সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা মেনে চললে অনেকাংশেই লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

      • রোগীদের কেমোথেরাপির সময় রক্তের প্লাটিলেট, হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। হিমোগ্লোবিন বাড়াতে আনার, বিটরুটের জুস খেতে হবে। বিভিন্ন শাক এবং আমিষের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে, কারণ ভিটামিন সি সাধারণত আয়রন পরিশোষণে সহায়তা করে। আরো বিস্তারিত পড়ুনঃ Patient’s Diet

      সতর্কতার সঙ্গে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো যায়।