প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

ফুসফুসের ক্যান্সার কি?

ফুসফুসের ক্যান্সার একটি ভয়াবহ রোগ। ফুসফুসের ক্যান্সার এমন একটি অবস্থা যা কোষগুলিকে ফুসফুসে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভক্ত করে। এটি টিউমারের বৃদ্ধি ঘটায়। যা পীড়িত ব্যক্তির শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করে।

বিশ্বব্যাপী ০১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ব্লাড ক্যান্সার দিবস পালিত হয়।

ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণঃ

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নিন।

১. বেশিরভাগ সময় কাশি হওয়া
২. কাশির শব্দে পরিবর্তন বা কাশির সময় বুকে ব্যথা
৩. কোনো কাজ করতে গিয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
৪. কফে রক্ত আসা
৫. বুকে বা কাঁধে ব্যাথা
৬. বুকের ইনফেকশন
৭. ক্ষুধা কমে যাওয়া ও ওজন কমে যাওয়া
৮. ক্লান্তিবোধ

 

সাধারণত যেসকল কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে?

৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার হয়ে থাকে। তাছাড়া, যানবাহন ও কল-কারখানার কালো ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, ধুলাবালি ইত্যাদিও কারণ হতে পারে।

অজৈব পদার্থের ক্ষুদ্র কণা বা আঁশ যেমন- এসবেস্টস, নিকেল, ক্রোমিয়াম এবং জৈব পদার্থ যেমন- বেনজিন, বেনজোপাইরিন ইত্যাদি বায়ুর সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। ফুসফুসের ওপর প্রতিনিয়ত অত্যাচারই এর জন্য দায়ী। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ রোগীই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপায়ী ও তামাকসেবী।

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর আত্মীয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ থেকে ধারণা করা হয় যে, এই ক্যান্সারের উৎপত্তিতে বংশগত প্রভাবও বিদ্যমান। এ ছাড়া সিলিকোসিস, ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, ক্রোনিক ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি রোগগুলোতে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেশ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া পেশাগত কারণ– খনি শ্রমিক, বায়ুদূষণ, জেনেটিক এবং রেডিয়েশন অন্যতম কারণ। পেশাগত কারণ যথা- কয়লার খনি, বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক, পেট্রোলিয়াম, কেমিক্যাল বা রাবার কারখানার শ্রমিক ও জাহাজ শ্রমিকদের বেশি হয়।

ফুসফুসের ক্যান্সারের ডায়াগনোসিস বা স্ক্রিনিং

ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে বুকে এক্স-রে করা হয়। মাইক্রোস্কোপের নিচে কফ বিশ্লেষণের মাধ্যমেও অনেক সময় ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। তবে ক্যান্সার শনাক্তের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বায়োপসি।

যেখানে অস্বাভাবিক কোষ বা টিস্যুর পর্যবেক্ষণ বা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। প্রচলিত বায়োপসিগুলোর মধ্যে ব্রংকোস্কপি, মেডিয়াস্টিনোস্কপি, নিডল বায়োপসি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ফুসফুসীয় ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার আগে ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে- তা নির্ণয় করা হয়। ক্যান্সারের ধরণ, অবস্থান ও আকার, স্টেজিং, গ্রেডিং এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি

প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ রোগী সুস্থ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন। এ ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রধানত কয়েকভাগে বিভক্ত-

রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ক্যান্সারের ধরণ অনুযায়ী চিকিৎসক সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারন করবেন।

অন্যান্যঃ

  • ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। সুস্থ পরিবেশে বসবাস করুন।
  • ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের কেমোথেরাপির সময় রক্তের প্লাটিলেট, হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।  হিমোগ্লোবিন বাড়াতে আনার, বিটরুটের জুস খেতে হবে।  বিভিন্ন শাক এবং আমিষের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে, কারণ ভিটামিন সি সাধারণত আয়রন পরিশোষণে সহায়তা করে। আরো বিস্তারিত পড়ুনঃ Patient’s Diet

সতর্কতার সঙ্গে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো যায়।