প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট কি?
বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশান (বিএমটি) বা স্টেম সেল প্রতিস্থাপন হল একটি প্রক্রিয়া যা ক্ষতিগ্রস্ত বা রোগাগ্রস্ত বোন ম্যারো রক্ত সৃষ্টিকারি স্বাস্থ্যকর স্টেম সেল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি তখন দরকার যখন বোন ম্যারো সঠিকভাবে কাজ করে না এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর রক্ত কনিকা প্রস্তুত করতে পারে না।

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট কিভাবে করা হয়?
হাড়ের ভিতরে থাকে অস্থিমজ্জা। একেই বলে বোন ম্যারো। বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন কিডনি, হার্টের মতো অঙ্গ প্রতিস্থাপন নয়। অন্যের শরীর থেকে বোন ম্যারো নিয়ে রোগীর শরীরে বসিয়ে দেওয়ার ব্যাপার নয় এটি।

ট্রান্সপ্ল্যান্ট দু’রকমের হয়ঃ

  • প্রথম ক্ষেত্রে, রোগীর শরীর থেকেই স্টেম সেল সংগ্রহ করে তা বসানো হয়। একে অটোলোগাস ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলে।
  • দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অন্যের শরীর থেকে নিতে হয়। একে অ্যালোজেনিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলে।

প্রতিস্থাপনের আগে রোগী বা ডোনারকে গ্রোথ ফ্যাক্টর ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এই ইঞ্জেকশন রক্তকে স্টিমুলেট করে স্টেম সেলকে রক্তের মধ্যে নিয়ে আসে। তারপর শিরার মধ্য দিয়ে রোগীর রক্তে স্টেম সেল প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। তারপর স্টেম সেল নিজে থেকেই খুঁজে খুঁজে রক্তের মাধ্যমে রোগীর অস্থিমজ্জার ভিতরে চলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে নিজে নিজেই স্টেম সেল, শ্বেত রক্তকণিকা, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে থাকে। একে বলে এনগ্র‌্যাফট। এনগ্র‌্যাফট হওয়া মানে বোন ম্যারো ট্র‌ান্সপ্ল্যান্ট সফল হওয়া। হাসপাতালে চিকিৎসা সম্পূর্ণ হতে অন্তত তিন সপ্তাহ লাগে। এরপর প্রথম তিন মাস নিয়মিত ডাক্তারের কাছে চেক-আপ করতে হয়। ব্লাড টেস্ট করে দেখা হয় ক্যানসার সেল ফের তৈরি হচ্ছে কি না বা অন্য সমস্যা হচ্ছে কি না।

প্রতিস্থাপনের পূর্বে চিকিৎসক থেকে কি কি বিষয় জেনে নেয়া প্রয়োজন?

  • এই চিকিৎসার সুবিধাবলীগুলো কি কি?
  • চিকিৎসার ঝুঁকিগুলো কি কি?
  • প্রতিস্থাপনের আগে কি কি পরীক্ষা বা স্ক্যান করতে হবে?
  • প্রতিস্থাপন করতে কতক্ষন লাগবে?
  • যে চিকিৎসক এই সার্জারি করবেন, তিনি কতটা অভিজ্ঞ খোঁজ নিতে হবে বিভিন্ন উৎস থেকে।
  • হাসপাতালে কি থাকতে হবে? কতদিন থাকতে হবে?
  • প্রতিস্থাপনের খরচ, হাসপাতাল খরচ, ঔষধ খরচ কেমন হতে পারে?
  • প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগবে?
  • প্রতিস্থাপনের কতদিন পর ফলো-আপ করতে হবে?

তথ্যসুত্র ১তথ্যসূত্র ২

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন কখন প্রয়োজন?
ক্যান্সার (যেমন লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং মায়লোমা), অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া – এমন রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রয়োজন হয়।