প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

Ovarian Cancer বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার

ওভারি বা ডিম্বাশয় কি?

নারীরা সাধারণত যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে একটি হলো ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার।

ডিম্বাশয় হল ডিম্বাণু উৎপাদনকারী একটি প্রজনন অঙ্গ এবং স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ। ওভারি বা ডিম্বাশয় সন্তান ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ডিম্ব তৈরি করে। পাশাপাশি শরীরের জন্য জরুরি ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। নারী শরীরে জরায়ু অর্থাৎ ইউটেরাসের দু’পাশে দু’টি ওভারি থাকে।

ওভারির যে কোনো অসুস্থতায় আপনার জীবন ঝুঁকিতে পরতে পারে। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যানসার মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। এই রোগকে চিকিৎসকরা সাইলেন্ট কিলার বলে থাকে। চার ধাপে ডিম্বাশয় ক্যানসার শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম ধাপে একটি বা উভয় ওভারিতে ক্যান্সার ছড়ায়। দ্বিতীয় ধাপে ওভারি থেকে তলপেটের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে ক্যানসার। তৃতীয় ধাপে পুরো পেটে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ ধাপে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ওভারিয়ান ক্যানসার। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ নারীরা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণঃ
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নিন।

  • ডিম্বাশয়ে ক্যানসারে হলে খাদ্য হজম প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়।ফলে ক্ষুধামান্দ্য হয় ও পেট ভরা ভরা লাগে সবসময়। হঠাৎ করে ক্ষুধা কমে যাওয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ।
  • কোমরের নীচের দিকে দীর্ঘদিন ধরে চিনচিন করা ব্যথা হলে তা ডিম্বাশয় ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
  • ওভারিয়ান ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ হল অনিয়মিত মাসিক। আবার যোনি পথে হঠাৎ রক্তপাত হওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। তবে অনেক সময় ডিম্বাশয়ের সিস্টের জন্যও অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় এক্ষেত্রে। ডিম্বাশয়ের টিউমার ফুলে উঠে পেট, অন্ত্র, ব্ল্যাডার বা মূত্রথলিতে চাপ দিতে থাকলে এই সমস্যাগুলো হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • এছাড়াও হঠাৎ ওজন কমতে শুরু করা, ঘন ঘন প্রস্রাব, পেলভিস এরিয়ায় ঘন ঘন ব্যথা, যোনি পথের আশেপাশের চামড়ার রং পরিবর্তন বা র্যাশ দেখা দিতে পারে।
  • ওভারিয়ান ক্যানসারের আরও কিছু লক্ষণ হলো- সাদা স্রাব নিঃসরণ, বেশি সময় ধরে তীব্র পেট ব্যথা ইত্যাদি।

 

সাধারণত যেসকল কারণে এই ক্যান্সার হতে পারে

  • অনিয়মিত মাসিক, গর্ভনিরোধক ওষুধ সেবন, একাধিক গর্ভধারণ ও অল্প বয়সে গর্ভাবস্থা হলে এ ক্যনসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • কিছু কিছু মেডিসিন ব্যবহারেও ডিম্বাণুতে টিউমার হতে পারে।
  • যাদের প্রজনন অক্ষমতার জন্য হরমোনাল চিকিৎসা নিতে হয় তাদের ডিম্বাশয় ক্যানসারের জন্য ঝুঁকি থাকে।
  • মেনপোজের আগে শরীরের অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • পরিবারের কারও যদি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থাকে তাহলে অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডায়াগনোসিস

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ক্যান্সারটি শনাক্ত হয় অনেক দেরিতে, ততোদিনে তা পেটে এবং অন্ত্রে ছড়িয়ে যায়। তবে প্রাথমিকভাবে ধরা পড়লে এবং যথাযথ চিকিৎসা করা গেলে পরের ৫ বছরের বেশী সময় সার্ভাইভ করার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ।
বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষা করে দেখা হয় রোগীর সমস্যাটি ওভারিয়ান ক্যান্সার কি না। যেমনঃ

  • রক্ত পরীক্ষা
  • আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানিং
  • ল্যাপারোস্কপি (Laparoscopy)
  • সিরাম টিউমার মার্কার টেস্ট
  • ইমিউনোলজিক্যাল (Immunological) টেস্ট
চিকিৎসা পদ্ধতি
ওভারিয়ান ক্যানসার ধরা পড়লে সাধারণত নিচের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কার্যকর হতে পারেঃ

রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ক্যান্সারের ধরণ অনুযায়ী চিকিৎসক সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারন করবেন।ধতি

অন্যান্য

  • যাদের শরীরে ওভারিয়ান ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তারা ঝুঁকি নিয়ে ওভারি ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করতে পারেন। ওভারিয়ান ক্যান্সার রোধে এটি একটি কার্যকরী পদ্ধতি।
  • গবেষণায় দেখা যায়, যেসব নারী সন্তানকে বুকের দুধ দেন তাদের মাঝে ওভারিয়ান ক্যানসারে হওয়ার প্রবণতা কম।
  • ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে না পড়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সতর্কতার সঙ্গে কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই এড়ানো যায়।