প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব

ক্যান্সার প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবার একত্রিত হতে হবে।

নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট

কিছু কিছু ক্যান্সার আছে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

ধূমপান এবং এলকোহল পরিত্যাগ

সিগারেট, এলকোহল এবং সকল প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও পরিবেশ

স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খান। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।

পারিবারিক ইতিহাস

পরিবারের কারো ক্যান্সার হয়ে থাকলে, উত্তরাধিকারসূত্রে ক্যান্সার সঞ্চালিত হতে পারে। তাই সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

ক্যান্সার প্রতিরোধের সাধারণ উপায়

 ১) স্ক্রিনিং টেস্টঃ
বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্ক্রিনিং পরীক্ষা রয়েছে, যা ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা ক্যান্সারকে প্রথম দিকে খুঁজে পায়, যখন সেগুলো সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা করা যায়, অন্যরা আসলে ক্যান্সারকে প্রথম স্থানে বিকাশ হতে সাহায্য করতে পারে। শুধু কলোরেক্টাল ক্যান্সারের জন্য, নিয়মিত স্ক্রীনিং প্রতি বছর ৩০ হাজারেরও বেশি জীবন বাঁচাতে পারে। এজন্য কোলন এবং রেকটাল ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, সার্ভিকাল ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সার নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। শরীরের কোথাও চাকা আছে কিনা নিয়মিত খেয়াল রাখুন।

২) ধূমপান ও এলকোহল ত্যাগ করাঃ

ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান। ধূমপানের সঙ্গে ক্যান্সার অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্বে যত ধরনের ক্যান্সার আছে, তারমধ্যে ৯০ শতাংশ ক্যান্সারই ধূমপানের কারণে হয়। এলকোহল লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩) স্বাস্থ্যকর, পরিস্কার এবং পুষ্টিকর খাবারঃ

নিয়মিত স্বাস্থ্যকর, পরিস্কার এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করতে হবে। শরীরের নানা রোগের পেছনে খাদ্যাভ্যাসের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। অনিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল খান। অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করুন, কারণ এসব খাবারে অগ্ন্যাশয়, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।

৪) শারীরিক ব্যায়ামঃ

ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষ বৃদ্ধির হার, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা স্বাভাবিক থাকে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। সুতরাং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীর চর্চার পেছনে সময় দিন।

৫) যৌন সংক্রমণ থেকে রক্ষাঃ
অন্যান্য সমস্যার মধ্যে, যৌন সংক্রমণ – যেমন হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) – বিভিন্ন ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত। এই সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা আপনার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। এজন্য সেরা সুরক্ষা হলো এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা, যার যৌন সংক্রমণ নেই। অন্যান্য পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সব সময় কনডম ব্যবহার করতে ভুলবেন না এবং অন্যান্য নিরাপদ-যৌন অনুশীলন অনুসরণ করুন।

৬) জিনগত রোগঃ

পরিবারের সদস্যদের পুরনো কোনো রোগ আছে কিনা সেই সম্বন্ধে আগে জানুন। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত হেলথ চেকআপ করান।

৭) অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষাঃ

আমরা অনেকেই জানি না যে, সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডির সঞ্চার হয় ও মেলানিনের সৃষ্টি হয়, যা আমাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। তবে সূর্যের তাপ নির্গত অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের স্বাস্থ্য ও ত্বকের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যা থেকে হয় স্কিন ক্যান্সার। তাই সূর্যের তাপ থেকে শরীরকে বাঁচিয়ে চলুন।

৮) টিকা দেয়া

প্রয়োজনীয় টিকা যেমন, জরায়ু ক্যান্সারের টিকা, হেপাটাইটিস-বি – এর টিকা দিতে হবে।

u

ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যাপারে রোগী এবং রোগীর আত্মীয় পরিস্কার ধারণা রাখুন।

ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়দের বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হয়। কোনো বিষয় না বুঝলে চিকিৎসককে জিজ্ঞাস করুন। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সে ব্যাপারে পরিস্কার ধারণা নিয়ে তারপর সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজনে ইন্টারনেটে বিশ্বাসযোগ্য সোর্স থেকে রিসার্চ করে জেনে নিন। ক্যান্সার চিকিৎসায় বিভিন্ন টিমের সাথে কাজ করতে হয়, যেমনঃ হাসপাতালের সার্জারি টিম, কেমোথেরাপি টিম, রেডিওথেরাপি টিম ইত্যাদি। সবাই সবার কাজ সঠিকভাবে পালন করচছে কিনা সে ব্যাপারে যথাসম্ভব খেয়াল রাখুন।

ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে হবে। যখন একজন রোগীর ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন রোগী এবং রোগীর আত্মীয়রা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। জীবনের এই কঠিন মুহুর্ত যেন পরিবারটিকে এলোমেলো করে দেয়। তাই ক্যান্সার রোগী এবং ক্যান্সার রোগীর পরিবারকে মানসিকভাবে সাহস দিন, আস্থা দিন, ভরসা দিন। ইতিবাচক কথা বলে তাঁদের আশাবাদী করে তুলুন। 

ক্যান্সার রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের দেশের প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীর মানসিক থেরাপিও প্রয়োজন রয়েছে। যেমনঃ মানসিক পরামর্শ, স্ট্রেস থেরাপি, স্লিপ থেরাপি, ছোটখাট শারীরিক ব্যায়াম - ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।